ফতুল্লায় চোরাই তেল উদ্ধার অভিযানের ঘটনায় ডিবি ও চোরাই তেল ব্যবসায়ী পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছেন। ফতুল্লার দুইটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে চোরাই তেল জব্দ করে করে ফতুল্লা থানায় একটি মামলা দায়ের করে ডিবি। অন্যদিকে চাঁদা না দেয়াতে তেল চুরির মামলা করা হয়েছে উল্লেখ করে আদালতে ডিবি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে ওই গোডাউনের মালিক।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, গত সোমবার (১১ মার্চ) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল মাতুব্বরের নেতৃত্বে ফতুল্লার লঞ্চঘাট এলাকায় চোরাই তেলের গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৫৭ ড্রাম চোরাই জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়। উক্ত ৫৭ ড্রামের মধ্যে ৭ হাজার ৬’শ লিটার ডিজেল, ৩ হাজার ৬০ লিটার অকটেন ও ৩’শ ৬০ লিটার পেট্রোল মজুদ আছে বলে জানায় পুলিশ।
এ ঘটনায় ডিবির এসআই আব্দুল জলিল মাতুব্বর বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় গোডাউনের মালিক ইকবাল হোসেন চৌধুরী সহ রুবেল, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেন রাসেল, ইব্রাহিম সহ ১৫/১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
ডিবির মামলার পর মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দুপুরে ওই তেলের গোডাউনের মালিক ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে ডিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা খাতুনের আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তিনি ডিবির সোর্স আনোয়ার হোসেনকে প্রধান আসামি করেন। এছাড়া ডিবির উপ পরিদর্শক আলমগীর হোসেন, সহাকারি উপ পরিদর্শক (এএসআই) জাহাঙ্গীর আলম ও ক্যাশিয়ার নুরু মিয়াকেও আসামি করা হয়।
মামলায় ইকবাল হোসেন ডিবির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। মামলায় তিনি বলেন, চাঁদা দাবি করার পর চাঁদা না দেয়াতে ডিবি পুলিশের উক্ত সদস্য তেল জব্দ করে নিয়ে যান। জব্দ তালিকায় তেলের পরিমাণ কম দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ তার। ডিবি ৭২টি তেলের ড্রাম জব্দ করলেও মামলায় ৫৭টি উল্লেখ করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন চোরাই তেল মজুদ রাখার ঘটনার আসামি ইকবাল হোসেন।
মামলার বাদী ব্যবসায়ী ইকবাল চৌধুরী ফতুল্লার চৌধুরী বাড়ির মৃত কুদরতুল্লাহ চৌধুরীর ছেলে।
এদিকে বাদীর অভিযোগটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা (ডিআইও-২) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, চোরাই তেলের এই সেক্টরটিতে এর আগে অভিযান চালানো হয়নি। জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে চোরাই তেল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের এই পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই তেল চোর সিন্ডিকেট এই মামলা দায়ের করেছে।
জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তথা ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদ, জুট সন্ত্রাসী সহ মাদক ও তেল চোরাকারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। এ অভিযান আরো বেগবান করা হয়েছে।